সাংবাদিককে মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ
প্রাণনাশের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিক
গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার পূর্ব আরিচপুর বউ বাজার এলাকায় এক নারী সাংবাদিককে মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা: শামিমা আক্তার টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোছা: শামিমা আক্তার (৪৫), স্বামী মৃত ইমরান আহমেদ, পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ তার মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মে ২০২৬ ইং তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব আরিচপুর বউ বাজার এলাকায় তাকে পথরোধ করেন অভিযুক্ত মোছা: রুপালি আক্তার (৩৫) ও তার স্বামী মো: ইমরান হোসেন রাকিব। এ সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে উভয়ে মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলায় তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা ও রক্তাক্ত জখম হয়। তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকিও দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন শামিমা আক্তার। বর্তমানে তিনি নিজের জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাংবাদিক শামিমা আক্তার বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করছিলেন বলেও তারা দাবি করেন। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগটি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সাংবাদিক ও তথ্য সংগ্রহকারীদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
ধন্যবাদ আপনাকে স্যার